টুকরো পাতার জাহাজ :: খান রুহুল রুবেল

[ টুকরো পাতাদের যাত্রা শুরু হয়েছিলো বেশ আগেই, খান রুহুল রুবেল বিভিন্ন সময় বিচ্ছিন্নভাবে তাদের হাজির করেছেন আমাদের সামনে। সাধারণত এক-দুই বা তিন পঙক্তির এসব টেক্সটগুলোতে সুচারুভাবে ইঞ্জেক্ট করা হয়েছে কবিতা, ফলে প্রত্যেকটি টুকরো পাতা একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে থেকে পাঠকের মনযোগ দাবি করে চলে। এসব পাতারা ছড়িয়ে আছে আমাদের বিবিধ বৃষ্টিবিকেলে, বিরহী দুপুরে এবং নিদ্রাহীন মধ্যরাতে, নগরীর বাসে এবং ফুটপাথের ছায়ায় ঘুরে  শেষমেশ তারা স্থান নেয় এই জাহাজে, টুকরো পাতার জাহাজে…

হাওয়াগ্রাম এই টুকরো পাতাগুলোর গতিবিধি লক্ষ্য করেছে অনেকদিন ধরে, তাদের কাপ্তান কবি খান রুহুল রুবেল-ও এই পাতাসকলকে একসাথে স্থান দিতে রাজি হলেন। তাই জাহাজ নোঙর করলো এই ধুলিবাতাসের হাওয়াগ্রামে।

পাঠক, এখন টুকরোপাতার দল নেমে আসুক জাহাজ থেকে, আপনার স্ক্রিনে তারা প্রদর্শন করুক তাদের কেরামতি, হাওয়ায় ছড়িয়ে পড়ুক কবিতা… ]  

ভূমিকা

এই লেখাগুলো কবিতা, কবিতাংশ, নাকি নিছক পঙক্তি, আমি জানি না। গত তিন বছরের নানা সময়ে এগুলো লিখিত। এবং লেখাগুলো স্বতঃনির্মিত, অর্থাৎ এই বাক্যসম্ভার, যতটা সচেতনভাবে আমার, তার চাইতে অনেক বেশী দায় বাক্যের নিজের।
হয়ত প্রচন্ড ক্লান্ত হয়ে হেঁটে যাচ্ছি, বা কারো সাথে কথা বলছি, বা সমাধান করছি জটিল কোন সমীকরণ, অর্থাৎ কবিতা করার মতো সময় সেটি নয় কোনভাবেই,  কিন্তু সহসা বিদ্যুতচমকের মতো আমার মাথায় নেমে এল কোন বাক্য। হয়ত খুব অসুখ, কিংবা আর্ত-ক্ষুধার্ত, অথচ আমার মাথায় নেমে এল একটি পঙক্তি, যেন বাণীপ্রাপ্তি! যেন ঐশ্বরিক আদেশ। এই লেখাগুলো সেইসব আদেশের সঙ্কলন। হাওয়ায় সমুদ্রে ভাসা টুকরো চূর্ণ পাতার জাহাজের সঙ্কলন।  তবে সচেতন একটি প্রচেষ্টা যে ছিল না একেবারে তা নয়, আমি ছোট ও সহজ বাক্যের সক্ষমতা দেখতে চেয়েছিলাম, দেখতে চেয়েছিলাম দুই বা তিন বাক্যের মধ্যে কতটুকু গল্প ঠেঁসে দেয়া যায়, এর কোন কোনটি এমনকি হয়তো ন্যানোগল্প হিসেবেও  চলতে পারে। আর বেশ কিছু পঙক্তি পাওয়া যাবে যেখানে প্রথম বাক্যটি দ্বিতীয় বাক্যের সঙ্গে মিলে একটি দ্বিধাময় বিভ্রান্তি তৈরি করে, মূলত এই ভাবনাকে সামনে রেখেই অনেকগুলো পঙক্তি লিখিত হয়েছিল কাছাকাছি সময়ে। যা কিছু গুছিয়ে রেখেছিলাম, তা থেকে বেশ কিছু বাদ দেয়া হলো, আরও কিছু বাদ দেয়ার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু শেষমেশ তা করা হলো না, আমি নিশ্চিতভাবেই জানি পাঠক আমার চাইতে অনেক মেধাবী, গ্রহণ বর্জন তাদের হাতেই থাকুক। ইচ্ছে ছিল শুধু এগুলো দিয়েই একটা কবিতাপুস্তিকার মতো করার, সেটা বোধ হয় আর সম্ভব নয়। এর কিছু কিছু প্রকাশিত হয়েছিল অনিয়মিত কাগজ সুনৃত এর গত সংখ্যায়।
হাওয়াগ্রাম জাহাজী পৃথিবীর নবীন বন্দর, তারা যখন লেখা চাইল, আমি ছড়ানো ছিটানো তিন বছরের টুকরো বিযুক্ত পাতাগুলো এক করে তাদেরকে দিলাম। কেননা দূরাগত গ্রাম থেকে আসা হাওয়া, আমি কোনদিনই অস্বীকার করতে পারি নি।

Continue reading

Advertisements

দানিয়েল, তোমার জন্য মন্দ্রাকান্তা চিঠি :: হাসনাত শোয়েব

শিশুদের কান্নার শব্দে তোমার ঘুম ভেঙে যাচ্ছে দানিয়েল। আমি জুতা আটকে দাঁড়িয়ে আছি সেই যীশুকাল থেকে। দানিয়েল তুমি আরো ঘুমাও। মুহূর্ত থেক খসে পড়ছে সময় ও শূন্যতার ডাকবাক্স। চিঠি ব্যবসা করার দিন শেষ হয়ে গেছে। বুকের ভিতর ডানা ঝাপটে উঠছে শূন্য ওভারকোট। ভাবছি আসছে বসন্তে পাখি ব্যবসা শুরু করব। দানিয়েল, বন্ধু তুমি আরো একটু ঘুমিয়ে নাও। Continue reading

সোনাবান :: নাফিস সবুর

ছড়ায়া ছিটায়া দেহনের মত
হাউশ.. .আছে;
হাওশের উড়ানি বাওয়াশ
এইখান থিকা গান উঠে সরপুটির লাহান
নরম বাসনা,
আলগা মাটি, নুড়ি পাথর এইগলা
প্রেমকাঁটা ঘাস পায়ের আলে আইসা জ্যান্ত হইয়া যায়! Continue reading

রিংমাস্টার :: মাহবুব শাহরিয়ার

আমলিগোলা সার্কাসের রিংমাস্টার হরিদাশ একদিন কুমারটুলি  বাংলা মদের ভাটি থেকা মদ খায়া  বাসায় ফিরার সময় চিন্তা করলো যে

সার্কাসের বাঘ,সিংহ,ভাল্লুক,বানর এইগুলি রে আর খেলা দেখানের কামে ব্যাবহার করবো না । এইগুলি রে সে পড়ায়া শিক্ষিত করবো । Continue reading

ধুলিবৃত্তের হাওয়া- হাসান হাফিজ তুষার-এর মীরপুরসকল

 তুষার মীরপুর স্বাভাবিকভাবেই ভালোবাসে, চেষ্টাচরিত্র করে না। লেন্সে চোখ রাইখা সে গোলচত্ত্বর, বেনারসি পল্লী,   ১১ নাম্বার, ডিওএইচএস ঘুইরা বেড়ায়। আমরা দেখি। মীরপুর নিয়া তার আলাদা একটা ভাবনা আছে, যেইটার কারণে সে প্রায়শই সেন্টি খায়। আমরা কিছু কই না, বিড়ির ধোঁয়ায় চারদিক আন্ধার করতে করতে সে দুই নাম্বার মাছের বাজারে ঢুইকা ক্রিকেটখেলা বালকের মোশন ধইরা নিয়া আসে। আমরা পুলকিত হই।

হাসান হাফিজ তুষারের মীরপুর পিরিয়ড এই হাওয়াগ্রাম-এ তুইলা রাখা গেলো। পাঠক আর দর্শকরে স্বাগতম
, ঢাকার মধ্যে আরেকদেশ মীরপুরে, তুষারের ক্যামেরায়। Continue reading

কিশোর :: ফারুক আবদুল্লাহ

………….বলটা ঐ সাদা বাড়ির পেছনে পড়ল, তমা দাঁড়িয়ে গেটের কাছে,
তমা বলল “বাড়িতে কেউ নেই”, …….সাদা বাড়িটার অনেক গলি ঘুপচি,
পেছনে বন্ধুরা ডাকছে,……..তমা…. লিখনের খুব গরম লাগছে……………

যাহ ঘুমটাই ভেঙ্গে গেল, লিখন স্বপ্নটার বাকি অংশটা দেখবে বলে আবার চোখ বন্ধ করলো,তার শরীর কাঁপছিল, যেন শরীরের কোন একবিন্দু থেকে কম্পন ছড়িয়ে পড়ছে, কিছু অস্ফুট শব্দ আওরাতে আওরাতে সে বিছানার সাথে নিজেকে মিশিয়ে দিল,তার চোখের পাতা তিরতির করে কাঁপতে কাঁপতে থেমে গেল। তারপর প্রবল বুককাঁপুনি শুরু হল, ১৬ বছরের লিখন স্বমেহন পরবর্তী এক অপরাধবোধ তাড়িত হয়, সে তার মত করে লক্ষ্য করেছে, এই ব্যাপারটা হলে সেদিন তার সারাটাদিন কিছু না কিছু খারাপ ঘটে, হয়তো প্রিয় দল খেলায় হেরে যায়,কিংবা বাবা খুব ছোট কোন ব্যাপার নিয়ে একগাদা কথা শোনায়। নিম্নাঙ্গে সেঁটে যাওয়া ট্রাউজারের ভেজা স্পর্শে তার শরীর ঘিনঘিন করে। বুকে তখনো অদ্ভূত পাপবোধ হৃদপিণ্ডকে এক দুরন্ত পেন্ডুলামের মত ধাক্কা খাওয়াচ্ছিল পাঁজরে, বড় বড় শ্বাসে তার ফুসফুস ক্লান্ত। Continue reading

সেলুন :: শাদ আশরাফ

। সেলুন । 

সেলুনের ভেতরে তুমি। তোমার সামনে পিছনে আয়না। আয়নার ভেতরে অজস্র পৃথিবীময় তুমি। যেমন বেঁচে থাকো অজস্র মুখোশে।

মনে করো, অনেকগুলো আয়নার ভেতরে আয়োজন করে পেলে ঠাঁই, তুচ্ছ এক প্রতিবিম্ব তুমি, চিনবে?

মনে করো, তোমার ভেতরটাই এক আধুনিক সেলুন। মুখোমুখি আয়নার ভিড়ে তুমি হারিয়েছো অসীম সেইসব দর্পণের চূড়ায়। তখন ঠিক করে বলো জাদু ধাধার জনপদে নির্বাচিত মুখ?

লোকটাকে দেখেছিলাম ডুব দেবার আগে। মাথায় অস্ট্রেলিয়ান আদিবসী জট। শামুকের মতো মুখ। হাতদুটো ক্রাচে দেয়া। হয়তোবা সমগ্র শরীর। Continue reading